শিক্ষা ব্যবস্থার ফাঁদ
বিল গেটস—মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
মার্ক জুকারবার্গ—ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা।
গৌতম আদানি—আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
রিচার্ড ব্র্যানসন—ভার্জিন গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
আপনি কি জানেন, এদের মধ্যে মিল কী?
হয়তো ভাবছেন, হ্যাঁ, এরা সবাই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষদের মধ্যে রয়েছেন এবং বর্তমানে বিশ্বকে প্রভাবিত করছেন।
রিচার্ড ব্র্যানসন ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি নিজস্ব মহাকাশযানে মহাকাশের প্রান্তে পৌঁছেছিলেন।
কিন্তু আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল আছে, যা আপনি হয়তো খেয়াল করেননি—
এরা সবাই এমন একটি ফাঁদ থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছেন, যেখানে প্রায় প্রতিটি মানুষ গর্বের সাথে প্রতিদিনই জড়িয়ে পড়ছে। এই ফাঁদ আমাদের বাস্তবতার ধারণাকে এমনভাবে পরিবর্তন করে দেয়, যে আমরা আর কোনও যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
অন্যদিকে, হয়তো আপনি এখন কোনো কলেজে পড়ছেন, নিয়ম মেনে ৯০% উপস্থিতি বজায় রাখছেন, বই মুখস্থ করছেন, এই আশায় যে, ডিগ্রি পাওয়ার পর একটি ভালো চাকরি পাবেন। কিন্তু সত্যিটা জানেন কি? এই জীবন-যাত্রার জন্য আপনি কখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিলেন?
কেউ হয়তো বলবেন, “১৮ বছর বয়সে।”
এবং এখন বয়স ৩০।
এই ১২ বছরে আপনি কী অর্জন করেছেন? হয়তো অনেক পড়াশোনা, একাধিক ডিগ্রি অর্জন, কিন্তু তবুও চাকরি নেই। প্রতিবার ব্যর্থতার পরে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। অবশেষে একটি চাকরি পেলেও বেতন হয় খুবই কম। এবং তখন শুরু হয় নতুন এক দুশ্চিন্তার চক্র—লোনের কিস্তি, পরিবারের দায়িত্ব, চাকরি হারানোর ভয়।
আপনি কি জানেন, এই সিস্টেমটি কীভাবে শুরু হলো?
১৮০৬ সালে, প্রুশিয়ার সেনাবাহিনী নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় হেরে যায়। এই পরাজয়ের পর প্রুশিয়ার নেতারা বুঝতে পারলেন, সেনারা নিজেদের মতো করে চিন্তা করছিল। তাই তারা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করল, যেখানে শিশুদের এমনভাবে শেখানো হবে যেন তারা শুধু নির্দেশ মেনে চলে, নিজেরা ভাবতে না শেখে।এই প্রুশিয়ান শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এই শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল শুধু এমন মানুষ তৈরি করার জন্য, যারা হবে শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী।
৫৩ বছর স্বাধীনতার পরেও, আজও আমরা সেই একই ফাঁদের মধ্যে আটকে আছি।
স্কুল, কলেজে ভর্তি হওয়া এখন শুধুই সামাজিক মর্যাদার বিষয়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই সিস্টেম আমাদের কী শেখাচ্ছে?
এই শিক্ষা ব্যবস্থা আপনাকে শুধু একজন চাকুরিজীবী হিসেবে তৈরি করে, একজন নেতা বা উদ্যোক্তা হিসেবে নয়।
তাহলে সমাধান কী?
হ্যাঁ, সন্তানদের স্কুলে পাঠান।
কিন্তু তাদের কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না।
তাদের নতুন স্কিল শিখতে দিন।
কাগজের সার্টিফিকেটের চেয়ে দক্ষতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা কি চাই, আমাদের সন্তানেরাও এই একই ফাঁদে আটকে থাকুক? না কি আমরা চাই, তারা নতুন কিছু তৈরি করুক, উদ্যোক্তা হোক, নিজেদের স্বপ্নের পথে হাঁটুক?
সিদ্ধান্ত আপনার।
কথোপকথনে যোগ দিন