মিথ্যা বলা কীভাবে একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়?
মিথ্যা বলা কোনো মানুষের জন্মগত স্বভাব নয়, এটি আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে। সাধারণত আত্মরক্ষা, লজ্জা এড়ানো বা পরিস্থিতি সামলানোর জন্য মানুষ প্রথমবার মিথ্যার আশ্রয় নেয়। যখন সে দেখে এই কৌশল তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, তখন মস্তিষ্ক এটিকে ‘সুরক্ষামূলক আচরণ’ হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর সুযোগ পেলেই সহজ পথ বেছে নেয়—আর সেই সহজ পথই হলো মিথ্যা।
প্রথমবার মিথ্যা বলতে গিয়ে সংকোচ হয়, ভয় কাজ করে—যদি ধরা পড়ে যাই! কিন্তু একবার পার পেয়ে গেলে সেই ভয় কেটে যায়, দ্বিতীয়বার একটু বেশি সাহস আসে। ধীরে ধীরে মিথ্যার বোঝা ভারী হতে থাকে, কিন্তু তখন আর পিছিয়ে আসার পথ খোলা থাকে না। সত্যকে আড়াল করতে নতুন নতুন মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, ফলে এটি একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়।
মানুষ তখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যখন সে মিথ্যা বলার জন্য বিশেষ চিন্তাভাবনাও করে না। এটি তার কথার ভঙ্গিতে, প্রতিদিনের ব্যবহারে মিশে যায়। অনেক সময় সে নিজের মিথ্যাকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে, এবং তখনই এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কাজ করে, কারণ এতদিনের তৈরি করা মিথ্যার সাম্রাজ্য ধসে পড়তে পারে।
তবে, অভ্যাস যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি সচেতন চেষ্টায় তা ভাঙাও সম্ভব। একজন মানুষ যদি উপলব্ধি করে যে মিথ্যা তাকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ, তবে ধীরে ধীরে সত্য বলার সাহস অর্জন করতে পারে। সাহসের সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো সত্যকে গ্রহণ করা, এবং মিথ্যার শেকল ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
কথোপকথনে যোগ দিন